ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮:২৯ পূর্বাহ্ন

এখনই বন্ধ হচ্ছে না তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আপাতত তিনটি প্রতিষ্ঠান অবসায়ন হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে- জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স (বিআইএফসি)। আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য ৩ থেকে ৬ মাস সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও অবসায়নের আওতায় আনা হবে।

প্রথম ধাপে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উচ্চ খেলাপি ঋণ, দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিন কোম্পানির বর্তমান অবস্থা

জিএসপি ফিন্যান্স

বর্তমানে জিএসপি ফিন্যান্সের শেয়ার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১ টাকা ৯০ পয়সা দরে লেনদেন হচ্ছে। কোম্পানিটি ২০২২ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয় না। কোম্পানিটির বর্তমান রিজার্ভ রয়েছে ১২৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

প্রাইম ফাইন্যান্স

বর্তমানে প্রাইম ফিন্যান্সের শেয়ার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১ টাকা ৪০ পয়সা দরে লেনদেন হচ্ছে। কোম্পানিটি ২০২০ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয় না। কোম্পানিটির বর্তমান পুঞ্জীভূত লোকসান রয়েছে ৮২ কোটি ৭ লাখ টাকা।

বিআইএফসি

বর্তমানে বিআইএফসির শেয়ার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১ টাকা ৬০ পয়সা দরে লেনদেন হচ্ছে। কোম্পানিটি ২০১৪ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয় না। কোম্পানিটির বর্তমান পুঞ্জীভূত লোকসান রয়েছে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জানা গেছে, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক- কেন তাদের বিরুদ্ধে অবসায়নমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পরবর্তীতে মূল্যায়নের পর দেখা যায়, এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিজনেস আই/সাদিয়া

 

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ