মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন হওয়ায় ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইরানের কর্মকর্তারা জানান, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এই অঞ্চলে পৌঁছেছে। এগুলো মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক্স-এ একটি পোস্টে জানায়, লিংকনের স্ট্রাইক গ্রুপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে ‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে’ একটি বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছিল। যদিও ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার হুমকি থেকে সরে আসতে দেখা গেছে, তবে তিনি কখনও বিকল্পটি সম্পূর্ণ বাতিল করেননি।
এই মাসের গোড়ার দিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা শুরু হয়। ইরান জুড়ে বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন এবং দুই দেশের উত্তেজনার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও দেশব্যাপী বিক্ষোভ এখন বন্ধ, ট্রাম্প বারবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি, পেন্টাগনের ফাইটার জেট এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা এই অঞ্চলে একটি মহড়া চালাবে যা তাদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করবে এবং ক্ষমতা প্রদর্শন করবে।
ইরানের মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই জানিয়েছেন, ইরান নিজের সক্ষমতার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। তিনি বলেন, লিংকনের আগমন ইরানের জাতীয় সংকল্প ও দেশের নিরাপত্তার জন্য কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না এবং তারা যে কোনো সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। তথ্যসূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড