পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে একটি নৌযানের ওপর ফের প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শুক্রবার পরিচালিত এই অভিযানে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন এবং একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে ‘জয়েন্ট টাস্কফোর্স সাউদার্ন স্পিয়ার’ এই অভিযান পরিচালনা করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠন’ পরিচালিত একটি ট্রলারকে লক্ষ্য করে এই ‘লিথাল কাইনেটিক স্ট্রাইক’ বা প্রাণঘাতী সামরিক হামলা চালানো হয়।
হামলার পরপরই মার্কিন কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সাউদার্ন কমান্ডের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে জীবিত থাকা একজনকে উদ্ধারে সফল হয়।
এই অভিযানটি ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা মাদকবিরোধী সামরিক উদ্যোগ ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অংশ। এই অভিযানের আওতায় এ পর্যন্ত অন্তত ১১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের শুরুতে এই ধরনের হামলার সংখ্যা ও গতি কিছুটা কমে এসেছে। সর্বশেষ গত ৩১ ডিসেম্বর দুটি নৌযানে চালানো হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার পর এটিই প্রথম বড় সামরিক অভিযান। চলতি মাসের শুরুতে নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

যদিও প্রকাশ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা এই সামরিক অভিযানকে মাদক পাচারবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে ব্যাখ্যা করে আসছেন, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন—এই সামরিক চাপের অন্তর্নিহিত লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। তথ্যসূত্র : সিএনএন


















