ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ন

ধর্মঘটে অচল মিনেসোটার মিনিয়াপলিস শহর

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস শহরে ট্রাম্প সরকারের অভিবাসন-বিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে ব্যাপক ধর্মঘট পালিত হয়েছে। ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল, নো শপিং’ শীর্ষক কর্মসূচির অধীনে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শহরটির জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ট্রাম্প সরকারের অভিবাসন কর্মসূচিকে ‌‘জাতিগত বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

অভিবাসন পুলিশ সংস্থা ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)’ এর চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার পাঁচ বছর বয়সি শিশু লিয়াম কোনেজো রামোস ও তার বাবাকে আটকের ঘটনা তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। শিশুটির স্কুলের সুপারিনটেন্ডেন্ট জেনা স্টেনভিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্কুল থেকে ফেরার পথে শিশুটিকে গাড়ি থেকে জোর করে টেনে নামিয়ে আটক করা হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিউনিটি নেতা, ধর্মীয় গোষ্ঠী ও শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে ‘ডে অব ট্রুথ অ্যান্ড ফ্রিডম’ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা মিনেসোটা থেকে আইসিই অপসারণ, আইসিইর গুলিতে নিহত রেনি গুড হত্যাকারীদের বিচার, আইসিইর জন্য অতিরিক্ত ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ এবং সংস্থাটির মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের দাবি জানান।

ধর্মঘটের দিন শহরের কয়েকশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, হাজারো মানুষ কর্মবিরতিতে অংশ নেন এবং বাসিন্দারা নিত্য কেনাকাটা বন্ধ রাখেন। মিনিয়াপলিস সিটি কাউন্সিলও ধর্মঘটের পক্ষে সমর্থন জানায়।

এদিকে, আইসিইর একটি গাড়ি আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় এক চালককে জোর করে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরানো হচ্ছে। পথচারীদের প্রতিবাদের মুখে তাকে পরে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় আইসিই কর্মকর্তারা।

মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, চলমান ফেডারেল অভিযান সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে ভীত ও অসহায় করে তুলছে এবং এটি বর্ণভিত্তিক বৈষম্য করছে। তিনি শহর থেকে আইসিই অপসারণের আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও আইন প্রয়োগের সময় ব্যক্তিগত অধিকার ও ন্যায্য প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে গ্রেফতার উদ্বেগজনক।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ