নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের গণঅভ্যুথ্যান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশের পুঁজিবাজার একটা দোলাচালের মধ্যে রয়েছে। সূচক বাড়লে লেনদেন কমে। আবার লেনদেন বাড়লে সূচক কমে। সূচক কিংবা লেনদেনের উত্থান কখনো স্থায়ী হয়নি পুঁজিবাজারে। বাজারের এই ভারসম্যহীনতার কারণ হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় বিনয়োগকারীদের অনুপস্থিতিকে দায়ী করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নতুন রাজনৈতিক সরকার কে হতে যাচ্ছে এর ওপরই নির্ভর করছে দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের বিষয়টি। তেমনি দেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে রয়েছে নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার গঠনের জন্য।
সম্প্রতি নির্বাচন পরবর্তী পুঁজিবাজার ও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়েোগের বিষয়ে বিজনেস আই বাংলদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন।
অধ্যাপক আল আমিন বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরেও বাজারে তেমন ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বাজারে স্টেকহোল্ডার যারা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, তারা সাধারণত ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যদি বাজারকে বিনিয়োগের উপযুক্ত মনে না করে তাহলে তো তারা বিনিয়োগ করবে না। কারণ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক সরকার কে হবে? তাদের পলিসি কি, এসব বিবেচনা করে তারা বিনিয়োগ করেবে।
একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আরেকদিকে পলিটিক্যাল গর্ভমেন্টের উপর নির্ভর করছে বাজার কেমন হবে। এখন বাজারে টাকার অভাব নেই, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে রয়েছে। আমি মনে করি এক দিকে যেমন নির্বাচনের পরে প্রত্যাশা, তেমনি সাইডলইনে থাকা বিনিয়োগকারীদের সরব উপস্থিতি পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে পারে।
তিনি বলেন, এখন বাজারে বিনিয়োগ করা যেতে পারে কোম্পানিগুলোর পাফরমেন্স দেখে। যেসব কোম্পানি ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে, পিই রেশিও ভাল এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। যারা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে চায় তারা আসলে দ্রুত দাম বেড়ে যাচ্ছে এমন শেয়ারে বিনিয়োগ করে না। তারা ফান্ডামেন্টালের চেয়ে কম দামে যেসব শেয়ার বিক্রি হয়, ওই শেয়ারে বিনিয়োগ করে।
তিনি আরও বলেন, কেউ মনে করে এখন বিনিয়োগ করে দ্রুত বাজার থেকে বেরিয়ে যাবে। আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করে শেয়ার ধরে রাখতে চায়। এটা বিনিয়োগকারীর উপর নির্ভর করে।বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগের ধরণ অনুযায়ী নির্ধারণ হবে এখন বিনিয়োগের সঠিক সময় কিনা।
দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ওইসব ব্যাংক বা কোম্পানিগুলো ভালো যারা বছর শেষে ভালো লভ্যাংশ দেয়। লভ্যাংশ দেওয়ার পর ওইসব কোম্পানিগুলো বটম লাইনে থাকে তারা আগামী বছরে ভালো লভ্যাংশ দেবে। এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ আল আমিন।
এছাড়া কারো কাছে যদি এমন তথ্য থাকে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ বহুবিধ তথ্য থাকে তাহলে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি। অনেক সময় কোন কোম্পানি স্কিম হাতে নিলেই হয় না, এটা বাস্তবায়ন হতে সময় লাগে। সে পরযন্ত বিনিয়োগ করার জন্য বিনিয়োগকারীরর ধৈর্য থাকতে হবে। এটা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীকে পোর্টফোলিও সাজাতে হবে।
বিজনেস আই/সাদিয়া আফরিন