ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ন

প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হবে ঢাকায়

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে এবার দেখা গেছে নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা। মাত্র ১ হাজার ১২২টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় সাত লাখ। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি পদের জন্য লড়ছেন প্রায় ৬২৪ জন প্রার্থী।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয় গত বছরের ২৬ অক্টোবর। বর্তমানে বিশাল পরিসরের এই পরীক্ষা আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছে কমিশন।

এই বিপুল আগ্রহের পেছনে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড উন্নীত হওয়া। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে পদটি ১১তম গ্রেড থেকে উন্নীত হয়ে ১০ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন এখন শুরু হচ্ছে ১৬ হাজার টাকা থেকে, যা ধাপে ধাপে বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকায় পৌঁছাবে। আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন শুরু হতো ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে। বেতন বৃদ্ধি ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ায় এই পদে দক্ষ ও মেধাবী প্রার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে পিএসসি জানিয়েছে, এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। কমিশনের চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম বলেন, প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

সব দিক বিবেচনা করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুধুমাত্র ঢাকায় একক কেন্দ্রে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট। তখন শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৬৯টি। পরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের ফলে এই সংখ্যা কমে যায়। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং মাত্র ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে সরাসরি নিয়োগের জন্য পদের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ১২২টিতে। পদের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং একই সঙ্গে বেতন গ্রেড উন্নীত হওয়ায় প্রতিযোগিতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামো অনুযায়ী, মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য থাকবে ৯০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ১০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। কেবল লিখিত পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরাই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রধান শিক্ষক নিয়োগে এই বিপুল প্রতিযোগিতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান কাঠামোতে নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে। সাত লাখ প্রার্থীর মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত কারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন—সেটিই এখন সবার অপেক্ষার বিষয়।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ