ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি তেহরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, খামেনির পরিবর্তে ইরানে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। তবে এই মন্তব্যকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে এখন নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, খামেনি ইরানকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, এসব আন্দোলনের পেছনে বিদেশি উসকানি ও নিরাপত্তা হুমকি কাজ করছে।
গত কয়েক সপ্তাহে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, একজন নেতার দায়িত্ব হলো জনগণকে ভীতি নয়, স্থিতিশীলতা দেওয়া। যদিও ইরানের সরকার বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য তারা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া আয়াতুল্লাহ খামেনির কয়েকটি বার্তার পর। সেখানে তিনি ইরানে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দায়ী করেন। খামেনির অভিযোগ, ট্রাম্প সাধারণ ইরানি জনগণের নাম ব্যবহার করে সহিংস গোষ্ঠীগুলোকে উসকানি দিচ্ছেন, যা ইরানি জাতির মর্যাদার পরিপন্থী।
খামেনির এসব বক্তব্যের পর ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি খামেনির ব্যক্তিগত সমালোচনা করে বলেন, তাঁর শাসনামলে ইরান বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। তবে ইরানের সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হুমকির মধ্যেও দেশটি টিকে আছে এবং আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগোচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি এক ভাষণে আয়াতুল্লাহ খামেনি দাবি করেন, ইরানি জাতি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে মাথা নত করেনি এবং নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থাকে স্বৈরাচারী ও নিপীড়নমূলক বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কোনো নেতৃত্বের লক্ষণ হতে পারে না। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়েছে। এই বিষয়ে তেহরান থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো তাৎক্ষণিক সরকারি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তথ্যসূত্র : পলিটিকো