স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে বিজিবির। দেশের ৬১ জেলায় বাহিনীর ৩৭ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। আর কেউ যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা না করে, সেই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি)-এর ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ কুচকাওয়াজে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
কুচকাওয়াজ শেষে নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, ২৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনী আজ একটি সুসংগঠিত, পেশাদার ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবি দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিএন্ডসি’র কমান্ড্যান্টসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তিনি আরো বলেন, শৃঙ্খলাই একজন সৈনিকের অলংকার। সততা, আনুগত্য, নির্ভরযোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে নবীন সৈনিকরা বিজিবির গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য সমুন্নত রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে সর্ব বিষয়ে সেরা হিসেবে বক্ষ নম্বর ১৫৫-এর রিক্রুট আল ইমরান প্রথম স্থান অর্জন করেন। শারীরিক উৎকর্ষতায় সেরা হন বক্ষ নম্বর ২৭৬৯-এর শপিকুল ইসলাম (পুরুষ) ও বক্ষ নম্বর ১৫১৫-এর লুবনা খাতুন (নারী)। শ্রেষ্ঠ ফায়ারার নির্বাচিত হন বক্ষ নম্বর ১৩৪৭-এর শফিকুর রহমান তামিম (পুরুষ) ও বক্ষ নম্বর ১৫৩১-এর নাহিদা আক্তার (নারী)।
বিজিবি সূত্র জানায়, ৪৪ বছর ধরে বিজিটিসিএন্ডসি বিজিবির রিক্রুট প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্বাভাবিক সক্ষমতা ৭০০ থেকে ১ হাজার জন হলেও এবারের ১০৪তম ব্যাচে ৩ হাজার ২৩ জন রিক্রুটকে (২ হাজার ৯৫০ পুরুষ ও ৭৩ নারী) সফলভাবে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে এতসংখ্যক রিক্রুট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিজিবি স্বাধীনতার পর নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নবীন সৈনিকদের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় ট্রিক ড্রিল এবং বিজিবির সুসজ্জিত বাদকদলের ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়।
এ সময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।