পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেক-জায়ান্ট ও সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি আন্তর্জাতিক মানের, পরিবেশবান্ধব ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শক্তিশালী কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করে আসছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি টানা ৫-বার ‘আইসিএসবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ফর কর্পোরেট গভর্ন্যান্স এক্সিলেন্স’ এবং টানা ৪-বার ‘আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে।
এই অনন্য সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন কর্পোরেট অফিসে “সেলিব্রেটিং কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড অ্যাচিভমেন্ট” শীর্ষক এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, এফসিএস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পণ্যের গুণগত মান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সাশ্রয়ী মূল্য বিবেচনায় ওয়ালটন অনেক বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের চেয়েও এগিয়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ওয়ালটনের অবদান উল্লেখযোগ্য। দেশীয় বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের আধিপত্য কমানোর পাশাপাশি বহির্বিশ্বে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আইওটি ও এআইভিত্তিক উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ওয়ালটনের কারখানা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুসংগঠিত ও বিস্তৃত। এক সময় দেশের ইলেকট্রনিক্স বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের আধিপত্য থাকলেও ওয়ালটন তা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের প্রযুক্তিখাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির মধ্যে ওয়ালটন অন্যতম। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও নিয়মিত ডিভিডেন্ড প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। এ ধরনের কোম্পানির উন্নয়নে নীতি ও কর সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।
ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ—সব ক্ষেত্রেই ওয়ালটন সর্বোচ্চ কমপ্লায়েন্স মেনে চলছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি ‘সাফা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে।
তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ালটনের মোল্ড অ্যান্ড ডাই ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স লিড প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে। এছাড়া ইএসজি ক্যাটাগরিতে অবদানের জন্য ‘এক্সিলেন্স ইন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ এবং টেকসই জ্বালানি উদ্যোগে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড–২০২৫’ লাভ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ওয়ালটন কারখানায় দেশের সর্ববৃহৎ ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রথম লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা চালু হলে এই খাতে আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
সমাপনী বক্তব্যে ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ওয়ালটন সব ক্ষেত্রে কঠোরভাবে কমপ্লায়েন্স অনুসরণ করে। এর ধারাবাহিক স্বীকৃতি হিসেবেই আইসিএবি, আইসিএসবি ও আইসিএমএবিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত সেরা কর্পোরেট সম্মাননা অর্জন করছে ওয়ালটন।
অনুষ্ঠানে কেক কেটে টানা ৫-বার আইসিএসবি এবং টানা ৪-বার আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের সাফল্য উদযাপন করা হয়।