২৫ বছরের দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মেরকোসুর এর সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের পথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলো এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইইউর এই সিদ্ধান্তকে বহুপাক্ষিকতার জন্য ঐতিহাসিক দিন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেছেন, বিশ্ব যখন ক্রমেই সুরক্ষাবাদ ও একতরফা নীতির দিকে যাচ্ছে। তখন এই চুক্তি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পক্ষে একটি শক্ত বার্তা। যা উভয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারৎস এই চুক্তিকে একটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, এটি জার্মানি ও পুরো ইউরোপের জন্যই ইতিবাচক। তবে ২৫ বছর আলোচনা চলা খুব বেশি সময়। তাই ভবিষ্যতে নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো দ্রুত শেষ করা জরুরি।
রয়টার্সের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন এবং জার্মানি ও স্পেনের মতো দেশগুলো মনে করছে, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কজনিত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
উল্লেখ্য, চুক্তিটির বিরোধিতা করেছে ফ্রান্স সহ কয়েকটি দেশ। ফ্রান্স, ইইউর সবচেয়ে বড় কৃষি উৎপাদনকারী দেশ। তাদের আশঙ্কা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সুলভ গরুর মাংস, পোলট্রি ও চিনি আমদানি বাড়লে ইউরোপীয় কৃষকদের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হবে। চুক্তির বিরোধিতায় ইউরোপজুড়ে কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে, আর পোল্যান্ডে কৃষকেরা রাস্তায় নেমে মিছিল করেছেন।