সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করা অর্থে কেনা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১২টি ফ্ল্যাট, ৯১টি গাড়ি, জমি, জমির শেয়ার এবং ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ।
সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শাহজালাল ফার্টিলাইজারের সাবেক হিসাব বিভাগের প্রধান খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ভুয়া বিল ও রসিদ দাখিলের মাধ্যমে বিসিআইসির শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তিনি নিজের ও স্ত্রী হালিমা আক্তারের নামে বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেন—এমন প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জব্দ করা সম্পত্তির মোট মূল্য কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা।
সিআইডি সূত্র জানায়, জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি, ১১টি জমির শেয়ার (মোট ৩৯২ দশমিক ৭৩২৩ অযুতাংশ), ১২টি ফ্ল্যাট যার দলিলমূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯০ টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া আদালতের নির্দেশে তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০৫ সালে বিসিআইসির শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরি শুরু করেন ইকবাল। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে তিনি হিসাব বিভাগের প্রধান হন। ১৪ বছরের চাকরি জীবনে তিনি ৯১টি গাড়ি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দুটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এবং ঢাকা ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রায় পাঁচ বছর আগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
সিআইডির তথ্যমতে, ২০২২ সালের জুনে ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে র্যাব গ্রেফতার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পরে র্যাবের অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি মানিলন্ডারিং আইনে অনুসন্ধান শুরু করে এবং ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে।
বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, মামলার তদন্ত চলাকালে ঢাকার রমনা ও এয়ারপোর্ট এলাকায় আরও ৬টি ফ্ল্যাট এবং ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে মোট ৩০৪ শতাংশ জমি জব্দ করা হয়, যার দলিলমূল্য ৭ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ইকবাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ৯১টি গাড়ির মধ্যে ২১টি মিনিবাস ও দুটি হাইচ জব্দ রয়েছে। আদালতের নির্দেশে এসব মিনিবাস বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভাড়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ভাড়ায় চালিত গাড়ি থেকে এ পর্যন্ত ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ টাকা আয় হয়েছে, যা আদালতের অনুমতিক্রমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।