পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম, অর্থ পাচার, শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শর্তে সাপেক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। প্রতিবেদনে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিকন গ্রুপভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে শর্তসাপেক্ষে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। তদন্তের বিষয়ে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুব উর রহমান, উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক বিনয় দাস।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে বিএফআইইউ কর্তৃক প্রেরিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উল্লেখিত কোম্পানির জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করা প্রয়োজন। এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, এবং এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে উল্লিখিত বিষয়ে কমিশন তিন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কমিটি বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিকন গ্রুপভুক্ত অন্য প্রতিষ্ঠানে কি পরিমাণ ঋণ প্রদান করা হয়েছে খতিয়ে দেখবে। এ ছাড়াও কোম্পানিটির উৎপাদিত পণ্য বিকন মেডিকেয়ারের ব্যানারে বিক্রি করা হয়েছে কিনা, কোম্পানি কর্তৃক নেওয়া ঋণ হিসাবের অর্থ বিকন গ্রুপভুক্ত বিকন মেডিকেয়ার লিমিটেডের ঋণ সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা যাচাই করবে।
বিকন মেডিকেয়ার লিমিটেড কর্তৃক গৃহীত ঋণ হিসাবের অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে কিনা এবং বিকন মেডিকেয়ার লিমিটেড কর্তৃক গৃহীত ওভারড্রাফট ঋণ হিসাবের অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। আগামী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে কমিটি বিএসইসিতে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
বিএফআইইউ’র প্রতিবেদন
সূত্র জানিয়েছে, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিকন গ্রুপের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিটির উৎপাদিত ওষুধ বিকন মেডিকেয়ারের ব্যানারে বাজারজাত করে শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস কর্তৃক গৃহীত ঋণের অর্থ বিকন গ্রুপভুক্ত বিকন মেডিকেয়ার লিমিটেডের ঋণ সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

















