ঢাকা, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

১ জানুয়ারি থেকে পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হতে যাচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) আব্দুর রহিম খান ও ইপিবির মহাপরিচালক বেবি রাণী কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য সচিব জানান, এবারের মেলায় অনলাইনে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ই-টিকিটিং ব্যবস্থার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা অনলাইনে টিকিট কিনে কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রবেশ করতে পারবেন। যাতায়াত সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাসের পাশাপাশি কনসেশনাল রেটে ‘পাঠাও’ সার্ভিস যুক্ত হবে।

এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’ তৈরি করা হয়েছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ নির্মাণ করা হয়েছে। মেলায় বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ইলেক্ট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন থাকবে। সিনিয়র নাগরিকদের জন্য থাকবে সিটিং কর্নার। শিশুদের জন্য নির্মিত হয়েছে দুটি শিশু পার্ক। মহিলা, প্রতিবন্ধী ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য রয়েছে সংরক্ষিত স্টল।

পরিবেশ সুরক্ষায় এবার মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ হ্রাসকৃত মূল্যে সরবরাহ করা হবে।

পঞ্চমবারের মতো এই মেলা বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। লে-আউট অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট স্থান পাবে। দেশি বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স, ইলেকট্রনিক পণ্য, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হবে।

দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত এটিএম বুথ, মা ও শিশু কেন্দ্র, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ ও বিশ্রামের চেয়ার-বেঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যাতায়াতের জন্য কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে বিআরটিসির ২০০টির বেশি শাটল বাস চলাচল করবে। টিকিট মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহতরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন। মেলা সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকবে, সাপ্তাহিক ছুটিতে রাত ১০টা পর্যন্ত।

মেলার নিরাপত্তায় পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার ব্রিগেড সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবে। পরিচ্ছন্নতার জন্য ২০০-এর বেশি কর্মী নিয়োজিত থাকবে। খাদ্যদ্রব্যের মান নিশ্চিত করতে ভেজালবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

মেলায় ৫০০ আসনের একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলার সার্বিক তদারকির জন্য একটি অস্থায়ী সচিবালয় ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশীয় পণ্যের প্রচার ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৫ সাল থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে এ মেলা আয়োজিত হয়ে আসছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ