তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ইসরাইলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে ইসরাইল ‘মিথ্যা’ অজুহাত দেখিয়ে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ইস্তাম্বুলে বিজ্ঞান বিতরণ পুরস্কার অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এরদোগান বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও হামাস ধৈর্য ধরে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরাইলের এই আচরণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও নৈতিকতার লঙ্ঘন।
প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও তাদের সহকর্মীদের মৃত্যুর খবর যথাযথভাবে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। গাজায় ২৭০-এরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যা তথ্যপ্রচার ও সত্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
এরদোগান ইসরাইলের হামলার ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাট ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩,৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী, ৮৩০ শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী, এবং ১৯৩ বিজ্ঞানী ও গবেষক নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৭৮৫,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি এটিকে ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত গণহত্যার নীতি হিসেবে বর্ণনা করেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ধরনের বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং সমাধান খুঁজে বের করা তুরস্কের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনেও আলোচনার অংশ ছিলেন

অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলায় প্রায় ৭০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এরদোগান এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গাজার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর এই সহিংসতা যেন বন্ধ হয়, তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। এরদোগান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তুরস্ক এই প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এরদোগান ইসরাইলের হামলার প্রভাব শুধু নিরাপত্তা নয়, শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক অবকাঠামোয়ও গভীর ক্ষতি করেছে বলেও সতর্ক করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক সাহায্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।


















