ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ন

একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংক থেকে পাওনা ৩৪ হাজার টাকা এখনই নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক

তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণ ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই পাঁচটি ব্যাংকের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাওনা প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা, যা বিভিন্ন সময় তারল্য সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো। তবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এই পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এবং ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড। ইতিমধ্যে এসব ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের প্রভাবাধীন ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়া হয়। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত চার ব্যাংক থেকে প্রায় সম্পূর্ণ সীমায় অর্থ উত্তোলন করা হয়। এর ফলে আমানতকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়, ব্যাংকগুলোতে আমানত হ্রাস পায় এবং তীব্র তারল্য সংকট দেখা দেয়। গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতেও অনেক ব্যাংক হিমশিম খাচ্ছিলো।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিফাইন্যান্স স্কিম ও বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেয়। তবে তারল্য সংকট কাটলেও এসব ব্যাংকের মূল সমস্যা—অর্থাৎ দুর্বল ব্যবস্থাপনা, মূলধনের ঘাটতি ও অতিরিক্ত খেলাপি ঋণ—অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এখন ব্যাংকগুলোর ওপর বাড়তি চাপ দিলে পুরো একীভূতকরণ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হবে। তাই আপাতত মূল লক্ষ্য হলো নতুন ব্যাংকের কাঠামো নির্ধারণ, সম্পদ ও দায় মূল্যায়ন এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

তিনি আরও বলেন, একীভূত ব্যাংক গঠনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩৪ হাজার কোটি টাকার পাওনা নতুন প্রতিষ্ঠানের হিসাবের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এখনই টাকা ফেরত চাইলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট আরও বাড়বে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ছিলো দুর্বল এসব ব্যাংকের চলতি হিসেবে কোনো অর্থ যুক্ত হলেই ঋণের টাকা কেটে নেওয়া হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত থেকে এখন সরে এসেছে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দেবে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে। এতে তারা ঋণ পরিশোধের চাপ থেকে কিছুটা মুক্ত থেকে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় পাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একীভূতকরণের ফলে যদি ব্যাংকগুলোর শাসনব্যবস্থা উন্নত হয়, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ পুনরুদ্ধার করা যায় এবং জনগণের আস্থা ফিরে আসে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া এই অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে সফলভাবে একীভূতকরণ না হলে এই অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য দীর্ঘমেয়াদে দায় হয়ে যেতে পারে।

‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে গঠিতব্য নতুন প্রতিষ্ঠানটি হবে শরিয়াহ্-ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংক। এতে পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা অংশীদার হবেন, পাশাপাশি নতুন মূলধন সংযোজনেরও সুযোগ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ব্যাংকের মূলধন কাঠামো, পরিচালনা পর্ষদ, সম্পদ মূল্যায়ন ও দায়সমূহের পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিজনেস আই/

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ