ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন

ইকুয়েডরে কারাগারে দাঙ্গা, ৩১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে ফের ঘটেছে ভয়াবহ কারাগার দাঙ্গা। এবার দেশটির এল ওরো প্রদেশের মাচালা কারাগারে সংঘটিত সহিংসতায় প্রাণ গেছে ৩১ জন বন্দির। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই দাঙ্গার ঘটনাটি ইকুয়েডরের কারাগার ব্যবস্থায় চলমান অস্থিরতা ও প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষের একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার ভোররাতে, স্থানীয় সময় প্রায় ৩টার দিকে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মাচালার কারাগারের ভেতর থেকে বন্দিদের চিৎকার, গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে এলাকাবাসী আতঙ্কে পড়ে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই দাঙ্গা শুরু হয় প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে। দীর্ঘদিন ধরেই ইকুয়েডরের কারাগারগুলো এমন গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। লাভজনক মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের সংঘর্ষ প্রায়ই ভয়াবহ রূপ নেয়।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, মাচালা কারাগার থেকে মোট ৩১ জন বন্দির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে, যা কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে সরাসরি সহিংসতার ঘটনায়। কারা প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার বিকেলে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সকালে সশস্ত্র বন্দিদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৩৩ জন বন্দি ও একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছে। তবে এখনো নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, দাঙ্গা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ পুলিশ ইউনিট (এলিট ফোর্স) দ্রুত ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে এবং কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় কারাগারের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এই সহিংসতা ইকুয়েডরের কারাগারে চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতা। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও একই কারাগারে সংঘর্ষে ১৩ জন বন্দি ও এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশটির দুর্বল নিরাপত্তা কাঠামো, জনবল সংকট ও কারাগারের অতিরিক্ত ভিড় এই ধরনের ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যসূত্র : এএফপি

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ