ভারতের হিমাচল প্রদেশে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া বিশাল পাথরের নিচে চাপা পড়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর বহু যাত্রী এখনো নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর জেলার ঝাণ্ডুত্তা বিধানসভা এলাকার ভালুঘাট অঞ্চলের ভাল্লু সেতুর কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ের ওপর থেকে বড় বড় পাথর গড়িয়ে পড়ে চলন্ত বাসটির ওপর আছড়ে পড়ে। অতিবৃষ্টিজনিত ভূমিধসই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসটিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। এটি হরিয়ানার রোহতক থেকে যাত্রা শুরু করে বিলাসপুর জেলার ঘুমারিনের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে প্রবল বৃষ্টির সময় পাহাড়ের একাংশ ভেঙে পড়ে বাসটির ওপর। এত বড় পাথর পড়েছে যে বাসটি পুরোপুরি চ্যাপ্টা হয়ে যায়, উদ্ধারকারীরা প্রথমে সেটি চিহ্নিত করতেও বেগ পেতে থাকেন।
স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এসডিআরএফ) ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসের ভেতরে এখনো আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু দুর্ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করতে এবং আহতদের চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শোকবার্তা দিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে অনুদান এবং আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাহাড়টির একটি বড় অংশ সরাসরি বাসের ওপর ভেঙে পড়েছিল। ফলে বাসের ভেতরে থাকা অনেক যাত্রীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। মঙ্গলবার বিলাসপুরে ১২ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে আশেপাশের এলাকায়ও একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। তথ্যসূত্র : এনডিটিভি


















