তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, হামাস তাদের সাম্প্রতিক অবস্থান ও বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছে যে তারা শান্তির জন্য প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে হামাসের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে শনিবার এই মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। তিনি বলেন, হামাসের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার হামাসকে তার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। এর শেষ সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে হামাস একটি বিবৃতি দিয়ে আংশিক সম্মতি জানায়।
ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে এরদোয়ান বলেন, “হামাস বরাবরের মতো দেখিয়ে দিয়েছে, তারা শান্তির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির সুযোগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, হামাসের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের মাঝেও গোষ্ঠীটি আলোচনার পথ বেছে নিতে চায়, যা ভবিষ্যতে শান্তি স্থাপনের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় হামাস জীবিত ও মৃত সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়, তবে কিছু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা শর্ত নিয়ে আরও আলোচনার দাবি জানায়। তাদের মতে, “টেকসই শান্তির জন্য বাস্তব পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা প্রয়োজন।” এই অবস্থানকে “আংশিক সম্মতি” হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
হামাসের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “এটি ইঙ্গিত দেয় যে হামাস স্থায়ী শান্তির পথে এগোচ্ছে।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র গাজা অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি, হামাসের ইতিবাচক অবস্থানের প্রেক্ষিতে তিনি ইসরায়েলকে গাজায় বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তথ্যসূত্র : এএফপি