প্রতিবছর ৫ অক্টোবর সারা বিশ্বে পালিত হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের অবদান স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে এই দিনটি পালন শুরু হয়।
দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজ গঠনে শিক্ষক সম্প্রদায়ের ভূমিকা স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁদের অবদানকে তুলে ধরা।
এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষকতা পেশা : মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি’ । কোভিড-১৯ মহামারির পর শিক্ষা ব্যবস্থায় যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশই এই প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা।
শিক্ষক শুধুমাত্র পাঠদানের মাধ্যম নন; তিনি একজন পথপ্রদর্শক, চিন্তাবিদ ও সমাজ নির্মাতা। একজন সৎ, দক্ষ ও দূরদর্শী শিক্ষক একটি প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন “শিক্ষকই হলেন আলোকের বাহক।” প্রকৃতপক্ষে, শিক্ষকের হাত ধরেই মানবসভ্যতা জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েছে।
বাংলাদেশেও শিক্ষক সমাজ জাতীয় জীবনের অন্যতম ভিত্তি। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্তরের শিক্ষকরা ভবিষ্যৎ নাগরিক তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তবু তাঁদের অনেকেই যথাযথ সম্মান, সুযোগ ও পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। শিক্ষককে যত বেশি মর্যাদা দেওয়া যাবে, শিক্ষা তত বেশি শক্তিশালী হবে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হতে পারে শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করা। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব স্তর থেকেই তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সহযোগিতার হাত বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ, একটি জাতি তখনই এগিয়ে যায়, যখন তার শিক্ষকরা সম্মানিত, সুশিক্ষিত ও অনুপ্রাণিত থাকেন।
আজকের দিনে আমরা স্মরণ করি সেই সব শিক্ষকদের, যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন শিক্ষার আলো ছড়াতে। তাঁদের নিবেদন, ত্যাগ ও ভালোবাসা আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা যায় তাঁরা জাতির প্রকৃত স্থপতি।


















