ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৪:০৩ পূর্বাহ্ন

অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত আরও ৭০ ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার রাতে একের পর এক বিমান হামলায় আরও ৭০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। হামলার পর গোটা উপত্যকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। হামাস বলছে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা কমানোর দাবি করলেও ইসরায়েল বাস্তবে তার আগ্রাসন বন্ধ করেনি।

রোববার (৫ অক্টোবর) তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, শনিবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৯৩টি বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় ৭০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই ৪৭ জনের মৃত্যু ঘটে। সাম্প্রতিক এই হামলার পেছনে কারণ হিসেবে ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হামাসের সামরিক ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। তবে হামাস বলছে, এসব হামলার লক্ষ্য বেসামরিক জনগণ, এবং এটি “গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের” স্পষ্ট উদাহরণ

শনিবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস জানায়, “নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কমানোর বিষয়ে যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহুর সরকারের দাবি মিথ্যা প্রমাণ করেছে এই রক্তক্ষয়ী হামলা।” গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, ইসরায়েল “গাজায় গণবিধ্বংসী যুদ্ধ চালাচ্ছে”, যা দুই বছর ধরে চলমান গণহত্যা ও অবরোধ নীতির অংশ।

হামাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, আরব ও ইসলামি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন আইনগত ও মানবিক দায়িত্ব পালন করে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, ত্রাণ সহায়তা জোরদার করে এবং ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ায়—যাতে “নিধনযজ্ঞ” ও “গণঅনাহার” বন্ধ হয়।

গাজার গণমাধ্যম কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী শনিবার ৯৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা মূলত আবাসিক ভবন, বাজার এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। এতে ৭০ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। ধ্বংসস্তূপে আরও হতাহত থাকার আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনায় কয়েক ডজন ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, এবং গাজা সিটির কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার মধ্যে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে “অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করার” আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হামাস ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুতি দেখিয়েছে, এবং তিনি বিশ্বাস করেন হামাস “টেকসই শান্তির জন্য প্রস্তুত।”

এছাড়া শনিবার মিসর ঘোষণা করেছে, সোমবার কায়রোতে ইসরায়েলি ও হামাস প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবে। সেখানে ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প তার ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যেখানে যুদ্ধবিরতি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, এবং সংঘাত বন্ধের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তথ্যসূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ