রেকর্ড গড়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে নেপাল। ছবি: নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ফেসবুক
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরাক্রমশালী দল, দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এবার রীতিমত উড়িয়ে দিল নেপাল। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে সিরিজ জিতে ইতিহাস রচনা করল অপেক্ষাকৃত খর্বশক্তির দলটি।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সোমবার নেপাল জিতেছে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে। ১৭৩ রানের পুঁজি গড়ে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুটিয়ে দেয় স্রেফ ৮৩ রানে।
টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম জয়ের পরের ম্যাচেই আবার জিতে ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ করল নেপাল। টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে তাদের প্রথম সিরিজ জয়ও এটি।
ঐতিহাসিক দিনটি নেপাল আরও সমৃদ্ধ করেছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে সহযোগী দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডও গড়ে। ২০১৬ সালে শারজাহতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ৮১ রানের জয় ছিল আগের রেকর্ড।
আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গী হয়েছে বিব্রতকর এক রেকর্ড। তাদের ৮৩ রান কোনো সহযোগী দেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দলের সর্বনিম্ন। ২০১৪ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৮৮ রান ছিল আগের সর্বনিম্ন।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নেপালের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। ১৪ রানের মধ্যে তারা হারায় কুশাল ভুর্তেল ও অধিনায়ক রোহিত পাউড়েলকে। সপ্তম ওভারে দলীয় ৪৩ রানে ফেরেন কুসাল মাল্লাও। এরপর ৬৬ বলে ১০০ রানের জুটি গড়েন আসিফ শেখ ও সন্দিপ জরা।
চতুর্থ উইকেটে নেপালের সর্বোচ্চ জুটি এটি। আগের রেকর্ড জুটিতেও ছিলেন আসিফ। ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে রোহিত পাউড়েলের সঙ্গে ৯৯ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।
নেপালের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কে যেতে পারেন এই দুজনই। দুজনই ছাড়ান পঞ্চাশ। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ বলে অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান আসিফ। পাঁচে নেমে ৫ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৯ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন জরা।
তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩ রান আসে অতিরিক্ত থেকে।
সাতজন বোলার ব্যবহার করে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। দুটি করে উইকেট নেন সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়া আকিল হোসেন ও কাইল মেয়ার্স।
রান তাড়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে যায় উইন্ডিজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। রানও আসেনি প্রত্যাশা মতো। প্রথম ৫ ওভারে তারা করতে পারে কেবল ৭ রান। প্রথম বাউন্ডারির অপেক্ষা শেষ হয় ৩৪তম বলে গিয়ে!
১৫ বলে সর্বোচ্চ ২১ রান করেন জেসন হোল্ডার। দুই অঙ্কে যেতে পারেন আর কেবল দুজন।
বল হাতে নেপালের সফলতম বোলার মোহাম্মাদ আদিল আলম। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে চার ওভারে ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী পেসার। লেগ স্পিনে ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন কুশাল ভুর্তেল।
মঙ্গলবার একই মাঠে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়ন্টি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নেপাল: ২০ ওভারে ১৭৩/৬ (ভুর্তেল ২, আসিফ ৬৮, রোহিত ৩, মাল্লা ৭, জরা ৬৩, ঝা ৬, আদিল ১১; ব্লেডস ৪-০-২৭-১, আকিল ৪-০-২১-২, হোল্ডার ৪-০-৩৯-০, বিদেইসি ৩-০-২৮-০, জিশান ১-০-১৩-০, অ্যালেন ২-০-১৬-০, মেয়ার্স ২-০-২৬-২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৭.১ ওভারে ৮৩ (অ্যান্ড্রু ২, মেয়ার্স ৬, কার্টি ১, ওগিস ১৭, জাঙ্গু ১৬, হোল্ডার ২১, অ্যালেন ৭, আকিল ০, বিদেইসি ২, জিশান ৩, ব্লেডস ১*; দিপেন্দ্রা ৩-০-৪-১, কারান ২-০-৩-১, কামি ১-০-৮-০, রোহিত ২-০-১১-০ আদিল ৪-০-২৪-৪, ভুর্তেল ২.১-১-১৬-৩, রাজবানশি ৩-০-১৩-১)
ফল: নেপাল ৯০ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০তে এগিয়ে নেপাল
ম্যান অব দা ম্যাচ: আসিফ শেখ
বিভাগ : খেলাধুলা


















