ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ন

জাতিসংঘে আবেগঘন ভাষণে গাজায় গণহত্যা তুলে ধরলেন এরদোয়ান

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে বলেন, এখানে কোনো যুদ্ধ নয়, বরং গণহত্যা চলছে। পাশাপাশি বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন, “আমাদের চোখের সামনে গাজায় ৭০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে গণহত্যা হচ্ছে। গত ২৩ মাসে ইসরায়েল প্রতি ঘণ্টায় একটি শিশুকে হত্যা করেছে। এগুলো সংখ্যা নয়, প্রতিটি একটি জীবন, একজন নির্দোষ মানুষ।” তিনি বলেন, আধুনিক ইতিহাসে এত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় আর ঘটেনি।

এরদোয়ান আরও বলেন, মাত্র দুই বা তিন বছরের শিশুদের অজ্ঞান করার ওষুধ ছাড়াই অঙ্গচ্ছেদ করা হচ্ছে। বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এটি মানবতার সর্বনিম্ন পর্যায়। গাজায় কোনো যুদ্ধ নেই; এখানে দুই পক্ষ নেই। এটি একতরফা আগ্রাসন, গণহত্যা এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের নীতি।” তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং অন্যদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

তিনি অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি, বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরায়েলের “গণহত্যাকারী চক্রকে” জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েল কেবল গাজা বা দখলকৃত পশ্চিম তীরেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের আগ্রাসন সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন, লেবানন ও কাতারেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।

এরদোয়ান বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবতার খাতিরে আজ অত্যাচারিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে। তার ভাষায়, ইসরায়েলি হামলা নারীর অধিকার, শিশুর অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়বিচারসহ সবচেয়ে মৌলিক মানবাধিকারের ওপরও আঘাত হানছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শিশুরা যখন ক্ষুধা ও ওষুধের অভাবে মারা যায়, তখন সেই বিশ্বে শান্তি থাকতে পারে? গত শতকে মানবতা এমন নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করেনি।” তথ্যসূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ