ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ন

গাজা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠীকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান আব্বাসের

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিউইয়র্কে আয়োজিত বৈশ্বিক সম্মেলনে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নীতি বাস্তবায়ন এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ফ্রান্স ও সউদী আরবের উদ্যোগে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে অধিকাংশ জাতিসংঘের সদস্য উপস্থিত ছিলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মেলন বয়কট করেছে। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাহমুদ আব্বাসেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ভিসা প্রদান না করায় তিনি সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি। এর পরিবর্তে তিনি নিজের বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করে পাঠিয়েছেন।

ভিডিওবার্তায় আব্বাস বলেন, “হামাস এবং তার মিত্রদের অবশ্যই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। আমরা চাই একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র— যেখানে সাধারণ নাগরিকদের কাছে কোনো অস্ত্র থাকবে না, পুরো রাষ্ট্র এক আইনের অধীনে চলবে এবং একটি বৈধ নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে।”

তিনি আরও জানান, গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটলে ফিলিস্তিনে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টারি নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। আব্বাস বলেন, “যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলে তিন মাসের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে। সেই সরকারের মূল দায়িত্ব হবে অন্তর্বর্তী সংবিধান মেনে ফিলিস্তিনে নির্বাচনের আয়োজন করা।”

প্রসঙ্গত, পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিনি সরকার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) হিসেবে পরিচিত। পিএ মূলত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর জোট, যার সর্ববৃহৎ দল হলো ফাতাহ। মাহমুদ আব্বাস পিএ এবং ফাতাহ উভয়েরই প্রেসিডেন্ট।

গাজা উপত্যকায় এক সময় ফাতাহ ক্ষমতাসীন ছিল। ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাস জয়ী হওয়ার পর ২০০৭ সালের আগে ফাতাহকে উপত্যকা থেকে বের করে দেয় হামাস। ২০০৬ সালের পর গাজায় আর কোনো নির্বাচন হয়নি। হামাস প্রায় ১৯ বছর ধরে উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বের ভূমিকাতেও ছিল হামাস। ওই হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় বন্দি করে রাখা হয় হামাস ও প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধারা। এর জবাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজায় অভিযান চালায়, যা প্রায় দুই বছর ধরে চলেছে। এ সময় ৬৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। তথ্যসূত্র : সিএনএন

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ