প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখার পর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় থেকে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে তারা সড়কটি খালি করে।
সড়ক ছাড়ার আগে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি মাশফিক ইসলাম দেওয়ান এই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, দশম গ্রেড নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা তা মানবে না। দাবি না মানা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
কর্মসূচি ঘোষণার পর ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা হন।
এর আগে, আজ বুধবার সকাল থেকেই তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টার দিকে তারা সড়কটি অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে মারাত্মক যানজট সৃষ্টি হয়। এ কারণে অফিসগামী মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির হার বাড়ানো এবং সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের আনুপাতিক হারে নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। তারা তাদের দাবি না মানা হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ৩০ শতাংশ পদোন্নতি কোটা বাতিল, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতির রায় বাতিল, ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদবি পরিবর্তন, ২০২১ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের নিয়োগ বাতিল এবং নিয়োগবিধি সংশোধন।
গত মঙ্গলবার দুপুরেও একই এলাকায় প্রায় আধঘণ্টা বিক্ষোভ করে পলিটোমিক শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
এদিকে, সাত দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় একইসাথে বিক্ষোভ করছেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা। বুধবার গাজীপুর ও দিনাজপুরে সড়ক অবরোধের পাশাপাশি তারা রেলপথও অবরোধ করে।