গাজা সিটি দখলের মিশনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইসরাইলি বাহিনী, উপত্যকাটি এখন মৃত্যু ও ধ্বংসের আরেক নাম। প্রতিদিন নতুন করে যুক্ত হচ্ছে নিহত মানুষের সংখ্যা, অনাহার ও অপুষ্টিতে মরছে অসংখ্য শিশু। ইসরায়েলের লাগাতার হামলা, কঠোর অবরোধ এবং সীমান্ত বন্ধ থাকায় মানবিক সহায়তাও পৌঁছাতে পারছে না। গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার বোমাবর্ষণে একদিনে কমপক্ষে আরও ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (৭ সেপ্টেস্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখনো চলছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজারেরও বেশি। একদিকে বোমাবর্ষণ, অন্যদিকে ক্ষুধা ও চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, ইসরায়েলের অবরোধ ও হামলার কারণে গাজা এখন নিশ্চিত দুর্ভিক্ষের মুখে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৩৬৮ জন নিহত হয়েছেন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালগুলোতে আনা হয়েছে আরও ৬৮ জনের মরদেহ এবং আহত হয়েছেন ৩৬২ জন। এতে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬২ হাজার ৩৬৭ জনে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো বহু মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় পড়ে আছে, যাদের উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
মানবিক সহায়তা নিতেও গাজাবাসীদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে সহায়তা নিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন আরও ২৩ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৪৩ জন। শুধু চলতি বছরের ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সহায়তা নিতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৮৫ জনে, আর আহত হয়েছেন ১৭ হাজার ৫৭৭ জনের বেশি মানুষ।
ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে আরও ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন শিশু। এতে অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষুধাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮২ জনে, যার মধ্যে ১৩৫ জন শিশু। গাজার সীমান্তগুলো ২ মার্চ থেকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় ২৪ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ড ভয়াবহ খাদ্যসংকটে পড়েছে। জাতিসংঘের জরিপে গাজার উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে এবং সংস্থাটি সতর্ক করেছে, চলতি মাসের শেষে এ সংকট আরও দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে, গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল আবারও নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এতে এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৮২৮ জন নিহত এবং ৫০ হাজার ৩২৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যত ভেঙে গেছে। একইসঙ্গে শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ৭০০তম দিনে প্রবেশ করেছে, যা গোটা ভূখণ্ডকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে।
গাজায় ইসরায়েলের এসব কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আদালতগুলো গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা এখনো চলছে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


















