ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় অভিবাসনবিরোধী অভিযান, আটকদের অধিকাংশ দ. কোরীয়

যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারখানা থেকে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রায় পাঁচশ জন কর্মীকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুনদাইয়ের ওই কারখানা থেকে আটক অধিকাংশ ব্যক্তি কোরীয় নাগরিক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মিলিত উদ্যোগে পুরো অভিযানটি সম্পন্ন হয়। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিই জানিয়েছে, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান বা বেআইনিভাবে কাজ করার অভিযোগে ওই কারখানা থেকে ৪৭৫ জনকে আটক করা হয়। আপাতত তাদের জর্জিয়ার ফকস্টনে অবস্থিত একটি আইসিই কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আটকদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন কোরীয় নাগরিক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা হুনদাই কর্মীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তল্লাশির বিষয়ে অবহিত করছেন।

এই ঘটনায় উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা জানায়, মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য শিগগিরই কূটনীতিবিদ পাঠানো হবে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, মার্কিন আইন প্রয়োগের সময় কোরীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তার নাগরিকদের অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি, ওই কারখানায় অবৈধ নিয়োগ এবং গুরুতর ফেডারেল অপরাধের অভিযোগে তল্লাশি পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তা স্টিভ শ্র্যাংক বলেন, এটা আর দশটা অবৈধ অভিবাসী আটকের অভিযান নয়, যেখানে কর্মকর্তারা কোথাও গিয়ে সবাইকে ধরে বাসে তুলে নিয়ে এসেছেন। এখানে কয়েক মাস তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে ওই প্রমাণ দাখিল করে সার্চ ওয়ারেন্ট আদায় করা হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইতিহাসে এটি ছিল কোনও একক স্থানে পরিচালিত বৃহত্তম অভিযান।

সর্বশেষ এই অভিযানের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুটি অগ্রাধিকার—দেশে উৎপাদনশিল্প বাড়ানো ও অবৈধ অভিবাসন রোধের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া, পিয়ংইয়ংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গেও সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে।

শুক্রবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, আটক ব্যক্তিরা অবৈধ অভিবাসী ছিল। আর আইসিই তাদের কাজ করেছে।

সিউলের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কও চাই আবার দেশে স্থিতিশীল কর্মশক্তিও চাই। তবে যতদূর বুঝি, ওখানে অনেক অবৈধ অভিবাসী কাজ করছিল।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ওই ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়েছেন অভিযোগ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ওই কর্মীরা বাইডেনের মাধ্যমে এসেছিল। তারা অবৈধভাবে এসেছিল।

এদিকে, হুনদাই এক বিবৃতিতে জানায়, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কেউ সরাসরি হুনদাইয়ের কর্মী নন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ