ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ন

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭৫ ফিলিস্তিনি নিহত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলায় একদিনে অন্তত ৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪৪ জন। লাগাতার গোলাবর্ষণে পুরো নগরী পরিণত হয়েছে মৃত্যুভয়ে আচ্ছন্ন এক ‘আতঙ্কের নগরীতে’।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে গাজা সিটির পাড়া-মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। উপত্যকার কোথাও নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা।

জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ ইতোমধ্যে গাজা সিটিকে আখ্যা দিয়েছে ‘আতঙ্কের নগরী’ হিসেবে। বৃহস্পতিবার তাল আল-হাওয়া এলাকায় এক তাঁবুতে বিমান হামলায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। স্থানীয় বাসিন্দা ইসরা আল-বাসুস বলেন, “আমরা তাঁবুতে ঘুমাচ্ছিলাম, হঠাৎ বোমা পড়ে আমার শরীরে টুকরো লাগে। আমার চার সন্তান আতঙ্কে চিৎকার করছিল।”

শুক্রবার ভোর থেকে জেইতুন, সাবরা, তুফাহ, নাসর ও শুজাইয়া এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চালানো হয়। সিভিল ডিফেন্স জানায়, তুফাহ এলাকায় আটজন, শুজাইয়ায় এক আবাসিক ভবনে দুইজন এবং জেইতুন এলাকায় আল-ঘাফ পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, নিরাপত্তার খোঁজে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন মানুষ, কিন্তু যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই নতুন করে হামলার শিকার হচ্ছেন তারা। এমনকি আশ্রয় নেওয়া ঘরবাড়ি ও তাঁবুতেও হামলা চালানো হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আল-শিফা হাসপাতালে মর্গের জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় মেঝেতেই মরদেহ রাখা হচ্ছে। বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়া এক মা বলছিলেন, “আমাকে ফেলে কোথায় গেলে, বাবা? কেন?”

ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার যোগাযোগ কর্মকর্তা টেস ইনগ্রাম জানান, প্রায় ১০ লাখ মানুষ এখন আটকা পড়েছেন এই ‘ভয়, পালানো ও জানাজায় ভরা নগরীতে’।

ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, তারা গাজা সিটির প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং আরও অভিযান চালানো হবে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, জেইতুন এলাকায় অন্তত ৫২টি সামরিক যান মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া উত্তর ও মধ্য গাজা থেকে পশ্চিম উপকূলে বহু মানুষকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও রাফাহতেও একই রকম দুর্দশা নেমে এসেছে। নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে এক হামলায় সাতজন নিহত হন, তাদের মধ্যে তিনজন শিশু। রাফাহতে ত্রাণ সংগ্রহে আসা মানুষের ওপর গুলি চালালে সাতজন প্রাণ হারান।

শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের টানা স্থল ও বিমান হামলায় একদিনেই নিহত হয়েছেন অন্তত ৭৫ জন ফিলিস্তিনি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ