ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ন

চীন-রাশিয়া জোটকে হুমকি মনে করছেন না ট্রাম্প

চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ জোট যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি নয়। তিনি দাবি করেছেন, চীনের যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশি, যতটা যুক্তরাষ্ট্রের চীনকে প্রয়োজন।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানায়, ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীন-রাশিয়া জোট নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ট্রাম্প বলেন, তার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি চীনকে ভারসাম্যে রাখছে। তিনি জানান, চীন ও তাদের মিত্রদের ঘনিষ্ঠতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নয়।

এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে “ভিক্টরি ডে” সামরিক কুচকাওয়াজে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অংশ নেবেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার জবাব দিতে শি জিনপিং এই কূটনৈতিক প্রদর্শনী আয়োজন করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প রক্ষায় তার শুল্কনীতি জরুরি এবং এ জন্য কূটনৈতিক মূল্য দিতে হলেও তিনি প্রস্তুত। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “না, কোনো জোট গড়ছে না। চীন আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি তাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন।”

মঙ্গলবার এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং কেউ তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবতেও সাহস করবে না। “এটি হবে তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ভুল,” বলেন ট্রাম্প।

তবে একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেন। গত মাসে আলাস্কায় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের বৈঠকে কোনো শান্তিচুক্তি না হওয়ায় ট্রাম্প অসন্তোষ জানান। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের মানুষের জীবন রক্ষায় সবকিছু করবে,” যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। চীন পুতিনের এই পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সমালোচনা করেনি, বরং পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, বেইজিং দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সরবরাহ এবং রুশ তেল কেনার মাধ্যমে রাশিয়াকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া নতুন করে সীমান্তে সেনা সমাবেশ করছে। এক ভাষণে তিনি বলেন, “পুতিন কোনোভাবেই শান্তি চুক্তিতে রাজি নন।” তথ্যসূত্র : বিবিসি

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ