ঢাকা, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ন

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বীকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে আব্বাসের যোগদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এবারের অধিবেশনে ফ্রান্স, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তারা ফিলিস্তিন অথরিটি (পিএ) এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সদস্যদের ভিসা প্রত্যাখ্যান ও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জাতিসংঘ সদরদপ্তর চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিনি মিশন ভিসার ক্ষেত্রে যে ছাড় পেত, তা বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির প্রতিনিধি দল জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে নাও পারেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের হাতে আসা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা মাহমুদ আব্বাসসহ পিএ এবং পিএলও-এর অন্যান্য সদস্যদের ওপরও কার্যকর হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করছে যে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে মার্কিন আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এবং ফিলিস্তিনি অথরিটির সদস্যদের ভিসা বাতিল এবং প্রত্যাখ্যান করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শান্তি আলোচনায় গুরুতর অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ফিলিস্তিনকে অবশ্যই সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং একতরফা রাষ্ট্রস্বীকৃতির প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে, যা আলোচনার জন্য ফলপ্রসূ নয়।” এই বিবৃতি ইঙ্গিত করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছে এবং ফিলিস্তিনের নেতৃত্বের প্রতি চাপ বাড়াচ্ছে।

এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো পশ্চিমা দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ সংঘাত সমাধানের পরিবর্তে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তথ্যসূত্র : সিএনএন, নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ