পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কেয়া গ্রুপের রপ্তানি আয় থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের গরমিল ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের মাধ্যমে কোম্পানিটির প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা জমা হয়নি।
এফআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আগামী ২৬ আগস্ট সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংকের এমডি, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগের পরিচালককে সংস্থার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে কেয়া গ্রুপের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রপ্তানি বাবদ প্রাপ্ত অর্থের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।
প্রাপ্ত নোটিশ অনুযায়ী, সাউথইস্ট ব্যাংক ২০০৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কেয়া কসমেটিক্স লিমিটেডের এফসি অ্যাকাউন্টে ৩৯ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার, পূবালী ব্যাংক ২০০৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, ন্যাশনাল ব্যাংক ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৬৫ লাখ ডলার জমা দেয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ৬৬ কোটি ডলার বা ৮ হাজার ৫২ কোটি টাকা রপ্তানি আয়ের হিসাব মিলছে না।
এ বিষয়ে কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান দাবি করেন, “রপ্তানি আয়ের বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যাংকগুলো জমা না দেওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ইতোমধ্যে আমি অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিএসইসি এবং এফআরসির কাছে তদন্তের আবেদন জানিয়েছি। ব্যাংকের এই ভুলের কারণেই আমাদের প্রতিষ্ঠান খেলাপি তালিকায় পড়েছে।”
তবে ব্যাংকগুলোর পাল্টা বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, কেয়া গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পরিশোধ করেনি। ফলে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ থাকায় কোম্পানিটিকে খেলাপি ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এরই মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি অডিট ফার্ম নিয়োগ করেছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকলেও এফআরসি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে।