যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘অপরাধ বৃদ্ধির কারণে জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১১ আগস্ট) বিচার বিভাগকে রাজধানীর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমতি দেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে রাজধানীতে ৮০০ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দেন তিনি। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে অজুহাত বলেছেন বিক্ষোভকারীরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। সোমবার হোয়াইট হাউজের কয়েক ব্লক দূরে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তারা ‘বু’ ধ্বনি দিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন।ট্রাম্পের দাবি, ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় ফেডারেল কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, রাজধানীর ওপর ক্ষমতা দখলের ন্যায্যতা প্রমাণের কৌশল এটি। শহরটির জনসংখ্যা বর্তমানে ৭ লাখের বেশি। পেন্টাগন জানায়, সোমবার ৮০০ জন সৈন্য সক্রিয় করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০০-২০০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করবে।
ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করা সংগঠন ফ্রি ডিসির নির্বাহী পরিচালক কেয়া চ্যাটার্জি বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিন অবহেলিত ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দাদের অধিকারের ওপর আঘাত। এটি বড় ধরনের উত্তেজনা উসকে দেবে।কেয়া চ্যাটার্জি বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বা অস্বাভাবিক বলে আখ্যা দিলে কম হয়ে যাবে। এটা নিরেট কর্তৃত্ববাদ।ওয়াশিংটন ডিসির লাখ লাখ বাসিন্দার রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে বহু বছর ধরে বিতর্ক চলে আসছে। কারণ, এটি কখনো অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা পায়নি এবং ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে।
যদিও ১৯৭৩ সালের ‘হোম রুল আইন’ কিছু স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় আইন ও বাজেট অনুমোদন করে কংগ্রেস।যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর হওয়ায় সমান নাগরিক অধিকার নিয়েও জটিলতা রয়েছে। নাগরিক অধিকার নেতা রেভারেন্ড এল শার্পটন ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের সর্বোচ্চ অবমাননা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলছেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের একটি কৌশল।বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করেছে যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত নীতির ওপর তাদের প্রভাব নেই বললেই চলে।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী কলেজছাত্র আমারি জ্যাক বলেন, ‘আমি এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি। কারণ ডিসি যতটুকু স্বায়ত্তশাসন পায়, সেটাও হারিয়ে যাবে বলে আমার আশঙ্কা হচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়ালব বলেছেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে কোনও অপরাধ বৃদ্ধির কারণে জরুরি অবস্থা নেই। বাস্তবে ডিসিতে সহিংস অপরাধের হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপকভাবে কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে ৩৫ শতাংশ কমে গেছে এবং চলতি বছর আরও ২৬ শতাংশ কমেছে।



















