প্রায় দুই বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এবার ঈদুল আজহার আমেজ বলে কিছুই নেই। যুদ্ধ, অবরোধ ও মানবিক সংকটের ভয়াবহ বাস্তবতায় এবার কোরবানি তো দূরের কথা- গাজাবাসীর ঈদের খাবারে ন্যূনতম মাংস জোটার সম্ভাবনা নেই।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ ও ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধের কারণে গাজায় কোনো কোরবানির পশু প্রবেশ করতে পারেনি। গাজার স্থানীয় লোকজন সীমিতভাবে পশু পালন করলেও, তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগণ্য এবং দামের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
গাজাবাসী আবু হাতিম আল-জারকা বলেন, “গাজায় এখন যে পরিমাণ পশু রয়েছে, তা কোনোভাবেই সবার জন্য পর্যাপ্ত নয়। এমনকি নিজের পশুগুলোর জন্যও প্রয়োজনীয় পানি জোগাড় করাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।” তিনি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় আর কোনো পশু প্রবেশ করেনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় লাগাতার হামলা চালিয়ে আসছে। চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে অঞ্চলটিতে কঠোর অবরোধ কার্যকর করে তারা। সেই থেকে খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রবেশ একপ্রকার পুরোপুরি বন্ধ। ফলে গাজায় দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি।
এ পরিস্থিতিতে গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা জানাচ্ছেন, তাদের কাছে ঈদ এখন শুধুই আরেকটি দিন—যা ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর বেঁচে থাকার সংগ্রামের নতুন পালা। তারা বলছেন, ঈদের আনন্দ এখন বিলাসিতা, আর খাবারে মাংস থাকাটা কেবল স্মৃতি।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানায়, চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং লক্ষাধিক আহত হয়েছেন। যুদ্ধে নিহতদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।