মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আঁচ আরও বাড়িয়ে তেহরান এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করল। চলমান পারমাণবিক আলোচনার মধ্যেই ইরান জানিয়ে দিয়েছে—তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েল যদি হামলা চালায়, তবে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেও নিতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ভাষায়, শুধু ইসরায়েল নয়, ওয়াশিংটনকেও আইনি ও আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহি করতে হবে।
চলমান এই পারমাণবিক আলোচনা শুরু হয়েছে ১২ এপ্রিল, যা মূলত ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই চলছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বর্তমানে তারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে—যা চুক্তির নির্ধারিত ৩.৬৭ শতাংশের অনেক উপরে।
যদিও এটি এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ স্তরে পৌঁছায়নি, তবুও পশ্চিমা দেশগুলো একে গভীর উদ্বেগের চোখে দেখছে। এই প্রেক্ষাপটে সিএনএন জানিয়েছে, আলোচনা চলাকালীনই ইসরায়েল নাকি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এতেই ইরান তার অবস্থান কড়া করে তুলে ধরেছে।
জাতিসংঘে দেওয়া এক কূটনৈতিক চিঠিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইসরায়েল যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকেও “তাৎপর্যপূর্ণভাবে দায়” নিতে হবে। তিনি বলেন, জায়নবাদী রেজিমের যেকোনো দুঃসাহসিক আচরণের বিরুদ্ধে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে এবং এই হুমকির জবাবে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে “প্রতিসম এবং শক্তিশালী”।
এদিকে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও নীতিনির্ধারণ প্রধান মাইকেল অ্যান্টন। ওমানের মধ্যস্থতায় আসন্ন পঞ্চম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার, রোমে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে মতপার্থক্যই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।