ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

অনলাইনে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন চেনার উপায়

অনলাইনে চাকরির অফার পাওয়া যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দেয়ার সম্ভাবনাও তেমনই রয়েছে।

অনলাইনে চাকরির অফার পাওয়া যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দেয়ার সম্ভাবনাও তেমনই রয়েছে। প্রতারকরা ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায়ই ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এসব বিজ্ঞাপনে প্রসেসিং ফি বা প্রশিক্ষণের নামে আগাম অর্থ চাওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে বড় ধরনের স্ক্যাম করার সুযোগ তো থাকছেই। এজন্য অনলাইনে কোনো চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলে সতর্কতার সঙ্গে তা যাচাই করে নেয়া জরুরি। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅবের প্রতিবেদনে অনলাইনে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন শনাক্তের কয়েকটি উপায় সম্পর্কে বলা হয়েছে।

সন্দেহজনক ই-মেইল ঠিকানা

যে ই-মেইল ঠিকানা থেকে চাকরির অফার এসেছে, তা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। প্রতারকরা সাধারণত কোম্পানির ওয়েবসাইটের ডোমেইনযুক্ত ই-মেইলের পরিবর্তে জিমেইল বা ইয়াহুর মতো ফ্রি ই-মেইল পরিষেবা ব্যবহার করে থাকে। তবে চাকরির অফার আসল হলে সাধারণত সে কোম্পানির ওয়েবসাইটের ডোমেইনযুক্ত ই-মেইল থেকেই পাঠানো হয়ে থাকে। একটি কোম্পানির ওয়েবসাইট যদি xyz.com হয়ে থাকে, তাহলে চাকরি সম্পর্কিত যোগাযোগ [email protected] বা এ ধরনের ই-মেইল ঠিকানা থেকে করা হবে।

অস্পষ্ট কাজের বিবরণ

স্ক্যামাররা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার জন্য ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন তৈরি করেন। তারা ‘ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা আয় করুন’ বা ‘অভিজ্ঞতা ছাড়াই সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগ’-এর মতো আকর্ষণীয় ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। প্রকৃত বিজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে চাকরির বিবরণ ও যোগাযোগের তথ্য দেয়া থাকবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব বিজ্ঞাপনের জন্য স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফলে বিজ্ঞাপনের তথ্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই আবেদন করার আগে অবশ্যই কোম্পানি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে।

আগাম অর্থ পরিশোধের অনুরোধ

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোম্পানির পক্ষ থেকে আগাম অর্থ চাওয়া হয় না। বরং কিছু কোম্পানি ইন্টারভিউ দিতে এলে যাতায়াত খরচ দিয়ে থাকে। কিন্তু স্ক্যামাররা প্রশিক্ষণ বা ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের নামে অর্থ চাইতে পারে। যেহেতু নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় খরচ কোম্পানি বহন করে, তাই যেকোনো অর্থের দাবি করলে বুঝতে হবে প্রতারণার শিকার হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ভালোভাবে চাকরির বিবরণ ও কোম্পানির ওয়েবসাইট যাচাই করতে হবে।

তাৎক্ষণিক নিয়োগে চাপপ্রয়োগ

পুরো একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার, পরীক্ষা, দক্ষতা ও রেফারেন্স যাচাইয়ের মতো বেশ কয়েকটি ধাপ পার করতে হয় নিয়োগদাতা কোম্পানিটিকে। এর জন্য মোটামুটি কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু দেখা যাবে, স্ক্যামাররা আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই যোগাযোগ করে দ্রুত নিয়োগে চাপ প্রয়োগ করবেন। লিংকডইনেও এ রকম স্ক্যাম হতে পারে। এজন্য কোম্পানির ওয়েবসাইটের পাশাপাশি গ্লাসডোর, ক্রাঞ্চবেস ও হুইজের মতো ওয়েবসাইট থেকে নিয়োগদাতা সম্পর্কে খোঁজ নেয়া যেতে পারে।

অবাস্তব বেতন ও প্রতিশ্রুতি

প্রচারণার অংশ হিসেবে অবাস্তব বেতনসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধার কথা উল্লেখ থাকবে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপনে। পাশাপাশি দ্রুত পদোন্নতির বিষয়ও উল্লেখ থাকতে পারে। কাজের ধরনের সঙ্গে বেতন কাঠামো ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি যদি অবাস্তব মনে হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে স্ক্যাম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এক্ষেত্রে পেশাদার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি কোম্পানি প্রোফাইল যাচাই করা জরুরি।

মেকইউজঅব অবলম্বনে

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ