যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সতর্ক করে বলেছে, খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি না করলে স্টারলিংক ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারি ইউক্রেনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক এবং সামরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষত যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় এই পরিষেবাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গত সপ্তাহে কিয়েভে অনুষ্ঠিত একটি গোপন বৈঠকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনবিষয়ক বিশেষ দূত কেইথ কেলোগ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা করেন। এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানায় যে, যদি ইউক্রেন তাদের ভূখণ্ডে থাকা ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ সম্পদের ভাগ না দেয়, তবে স্টারলিংক ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হবে। এই খবর ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, যেখানে সূত্রের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কিয়েভের ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সময় স্টারলিংক, যা স্পেসএক্সের মালিকানাধীন একটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ইন্টারনেট ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা যোগাযোগ রাখে এবং যুদ্ধের কৌশল বাস্তবায়ন করে। তবে, এখন যুক্তরাষ্ট্র এই পরিষেবার ব্যবহার এবং ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের ভাগ নিয়ে চাপ প্রয়োগ করছে।
মার্কিন প্রতিনিধি দল জানায়, যদি ইউক্রেন এই খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে স্টারলিংক তাদের সেবা বন্ধ করতে পারে। এমনকি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এই পরিষেবাটিকে তাদের ‘নর্থ স্টার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যার ওপর তারা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। স্টারলিংক পরিষেবা বন্ধ হলে তাদের যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, এই খনিজ সম্পদ নিয়ে দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে থাকা খনিজ সম্পদের ভাগ না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা সীমিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, তাদের দুই দেশের মধ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তারা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
স্টারলিংক, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল, বিশেষত ড্রোন হামলা ও অন্যান্য সামরিক কৌশলের জন্য। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মেলিন্ডা হারিং বলেন, ‘স্টারলিংককে হারানো মানে যুদ্ধে ইউক্রেনের পরাজয়।’ এটি যুদ্ধের ময়দানে তাদের পক্ষে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে, যার ফলে ইউক্রেনের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।
শেষ পর্যন্ত, ইউক্রেনের জন্য এই চ্যালেঞ্জ একটি গুরুতর সংকট হতে পারে। খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি এবং স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের হুমকি, একদিকে ইউক্রেনের অস্তিত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।