সময়ের ব্যবধানে ওয়াই-ফাই রাউটারের পারফরম্যান্স কমে যেতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই সেটি পরিবর্তন করতে হয়।
সময়ের ব্যবধানে ওয়াই-ফাই রাউটারের পারফরম্যান্স কমে যেতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই সেটি পরিবর্তন করতে হয়। পুরনো রাউটারটি কিন্তু একেবারেই নষ্ট হয়ে যায় না। অনেক সময় এর স্থান হয় ডাস্টবিনে কিংবা ড্রয়ারের এক কোণে। পুরনো ওয়াই-ফাই রাউটার বা মডেম ফেলে না দিয়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। এ রকমই কিছু ব্যবহারের কথা জেনে নেয়া যাক—
ওয়াই-ফাই রিপিটার হিসেবে ব্যবহার
বাসার আকার ও আকৃতির কারণে ওয়াই-ফাইয়ের সংকেত বাড়ির সব জায়গায় ঠিকমতো নাও পৌঁছতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে আপনি পাওয়ারলাইন অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করতে পারেন। তবে সবচেয়ে সহজ সমাধান হতে পারে পুরনো রাউটারকে ওয়াই-ফাই রিপিটার হিসেবে ব্যবহার করা। এটি আপনার নতুন রাউটারের ওয়াই-ফাইয়ের সিগন্যাল গ্রহণ করে আরো বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে আপনার বাড়ির প্রতিটি কোণায় ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে। রিপিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। তবে এটি সহজ ও কার্যকর একটি সমাধান।
নেটওয়ার্ক সুইচ হিসেবে ব্যবহার
সাধারণত রাউটারের চার-ছয়টি ইথারনেট পোর্ট থাকে। বর্তমানে অনেক ডিভাইসে ওয়্যারলেস কানেকশনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যুক্ত করার প্রয়োজন হয়। তাই কিছু ক্ষেত্রে ইথারনেট পোর্টের সংখ্যা কম হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রেও পুরনো রাউটারকে নেটওয়ার্ক সুইচ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য পুরনো রাউটারকে নতুন রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করে সেটির ওয়াই-ফাই অপশন বন্ধ করে দিন। এতে করে আপনার ইথারনেট পোর্টের সংখ্যা বাড়বে এবং কেবলের মাধ্যমে আরো বেশি ডিভাইসে সংযোগ দেয়া যাবে।
ওয়্যারলেস ব্রিজ তৈরি
অনেক নতুন রাউটারে ইথারনেট পোর্ট থাকে না। বিশেষ করে মোবাইল নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক (ফোরজি/ফাইভজি) ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু ওয়াই-ফাই সংযোগের সুবিধা পাওয়া যায়। তবে যদি ডেস্কটপ কম্পিউটার, গেমিং কনসোল বা অন্য কোনো ডিভাইসকে ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে যুক্ত করার প্রয়োজন হয়, তাহলে ওয়্যারলেস ব্রিজ ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে পুরনো রাউটারকে একটি ব্রিজ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব, যা নতুন রাউটারের ওয়াই-ফাই সংযোগ গ্রহণ করে এবং সেটি ইথারনেট পোর্টের মাধ্যমে অন্য ডিভাইসের সঙ্গে ইন্টারনেট শেয়ার করে।
ভিপিএন রাউটারে রূপান্তর
পুরনো রাউটারে কাস্টম ফার্মওয়্যার ইনস্টলের সুবিধা থাকলে সেটিকে ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) রাউটার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ভিপিএন চালু করলে পুরো ইন্টারনেট সংযোগ এনক্রিপ্ট হয়ে যায় এবং ব্রাউজিং তথ্য সুরক্ষিত থাকে। সাধারণত ভিপিএন ব্যবহারের জন্য প্রতিটি ডিভাইসে আলাদাভাবে সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হয়। তবে রাউটারে ভিপিএন সেটআপ করলে নেটওয়ার্কের প্রতিটি ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রতিবার আলাদাভাবে ভিপিএন চালু করতে হবে না। অনেক পুরনো রাউটারে ভিপিএন সেটআপের সুবিধা থাকে, তবে কিছু ক্ষেত্রে মডেম-মোডে সেটিংস পরিবর্তন করতে হতে পারে। আপনি চাইলে রাউটারে ভিপিএন সেটআপের সহজ গাইড অনলাইনে খুঁজে নিতে পারেন।
বিক্রি করে টাকা আয়
পুরনো রাউটার দিয়ে কিছুই করতে না চাইলে এটি বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করা সম্ভব। অনেক ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেখানে পুরনো প্রযুক্তিপণ্য বিক্রি করা যায়। বিক্রির জন্য পুরনো রাউটারের মডেল নম্বর ও ব্র্যান্ড লিখে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। সাধারণত কম দামে রাউটার খুঁজছেন এমন কেউ অথবা নেটওয়ার্কিং নিয়ে আগ্রহী কেউ বা রেট্রো টেকনোলজি সংগ্রহকারীরা এটি কিনতে পারেন। হাউটুগিক অবলম্বনে