দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার ভোরে সিউলের পাহাড়ি এলাকার ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে তাকে আটক করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউনের বাসভবনটি কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা ছিল এবং সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার রাতে ৩০০ পুলিশ সদস্য এবং দুর্নীতি দমন সংস্থার কর্মকর্তারা বাসভবন ঘিরে ফেলে। ভোরে তারা বাসভবনে অভিযান চালিয়ে ইউনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
ইউনের আইনজীবীরা এ গ্রেপ্তারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এটি তাকে জনসমক্ষে হেয় করার জন্যই করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার।
গত ৩ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইউন সুক ইয়োল আকস্মিকভাবে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নির্মূলের অজুহাতে নেওয়া এ পদক্ষেপ দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিরোধিতার জন্ম দেয়।
ইউনের সামরিক আইন জারির ঘোষণায় দক্ষিণ কোরিয়া কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর রাজনৈতিক সংকটে পড়ে। আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির গণতান্ত্রিক সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে প্রবল চাপের মুখে ইউন সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
বিরোধী দলের আনা অভিশংসন প্রস্তাবের পর গত ১৪ ডিসেম্বর সাংবিধানিক আদালত ইউনকে বরখাস্ত করেন। তবে আইনি জটিলতার কারণে তিনি এখনও প্রেসিডেন্টের পদে রয়েছেন।
গ্রেপ্তারের সময় ইউনের সমর্থকরা বাসভবনের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলেও বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
ইউনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হলো। দেশটির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও স্থিতিশীলতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স