গেল বছরের নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও দুই অঙ্কের গড় মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে শতাধিক পণ্য ও সেবায় শুল্ক ও কর বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গত ৯ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর ফলে মধ্য ও নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) এবং সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ফল, রান্নার গ্যাস, ইন্টারনেট সেবা, মোবাইল ফোন সিম, রেস্তোরাঁর খাবার, সিগারেটসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে। অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। আমদানি করা পণ্যের মধ্যে সুপারি, ফল, বাদাম, সাবান, তেল, ওষুধের ক্ষেত্রে শুল্ক ও ভ্যাট বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর ফলে সামগ্রিকভাবে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই)-এ তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নাও ঘটতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, “যেসব পণ্যে কর বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর দাম যে বাড়বে, তা নিশ্চিত। মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব না পড়বে, এমন দাবি বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল।”
তিনি আরও বলেন, “যখন খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও প্রায় দুই অঙ্কের ঘরে, তখন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।”
অর্থ উপদেষ্টা ও এনবিআর দাবি করেছে, নতুন শুল্ক-কর বৃদ্ধি ভোক্তাদের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না। বরং, এই পদক্ষেপ রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
ব্যবসায়ী নেতারা শুল্ক-কর বৃদ্ধির চেয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, কর হার কমিয়ে নতুন ব্যবসায়ীদের কর ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করলে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব।
সরকারের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তির শর্তের অংশ। চলতি অর্থবছরে ১২ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে হবে।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে শুল্ক ও কর বৃদ্ধি সরকারের জন্য অপরিহার্য হলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।