জার্মানিতে পাঁচ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ মানুষ স্থায়ী আবাসনের বাইরে বসবাস করছেন বলে জানিয়েছে দেশটির আবাসন, নগর উন্নয়ন ও ভবন মন্ত্রণালয়। ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত দ্বিতীয়বারের মতো হোমলেসনেস রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গৃহহীনদের মধ্যে চার লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ জন জরুরি আবাসন সহায়তা ব্যবস্থাপনায় আশ্রয় নিয়েছেন। আরও ৬০ হাজার ৪০০ জন পরিচিতদের বাসায় অস্থায়ীভাবে থাকছেন। বাকিরা রাস্তায় বা অস্থায়ী আবাসনে বসবাস করছেন।
প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির শেষে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।
২০২২ সালে প্রথম প্রকাশিত হোমলেসনেস রিপোর্টে গৃহহীনের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৬৩ হাজার। এবারের সংখ্যা সেই তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রথমবারের প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা ছিল।
এবারের রিপোর্টে এক লাখ ৩৬ হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বিকল্পের অভাবে তারা শরণার্থী আবাসনে বসবাস করছেন।
জার্মানির আবাসন, নগর উন্নয়ন ও ভবন মন্ত্রী ক্লারা গেভিৎস জানিয়েছেন, গৃহহীন সমস্যা সমাধানে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন তৈরিতে জার্মানি ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক আবাসন খাতে ২০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করবে। গৃহহীনদের জন্য নিজস্ব বাসস্থান খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাও সরকারের অগ্রাধিকার।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে প্রতি রাতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন অবস্থায় থাকেন বলে জানিয়েছে ‘ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অব ন্যাশনাল অর্গ্যানাইজেশনস ওয়ার্কিং উইথ দ্য হোমলেস’।
জার্মান সরকার গৃহহীনতা মোকাবিলায় উদ্যোগী হলেও বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।