মোবাইল সেবা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ আরও বাড়তে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার মোবাইল ফোন সেবায় সম্পূরক শুল্ক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন যেকোনো সময় জারি হতে পারে।
বর্তমানে মোবাইল রিচার্জে ১০০ টাকায় সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, সারচার্জ, রেভিনিউ শেয়ার ও মিনিমাম ট্যাক্স মিলে ৫৪.৬ টাকা কেটে রাখা হয়। শুল্ক বাড়ানোর পর এই কর বেড়ে হবে ৫৬.৩ টাকা। অর্থাৎ, গ্রাহক ১০০ টাকায় ব্যবহার করতে পারবেন মাত্র ৪৩.৭ টাকা।
ইন্টারনেট ব্যবহার কমছে:
নতুন কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গ্রাহকরা ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবায় আরও সংকুচিত হতে পারে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, গত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মুঠোফোন গ্রাহক ৭৩ লাখ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৯৭ লাখ কমেছে।
গ্রাহকদের উদ্বেগ:
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন আহমেদ এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দেশে ইন্টারনেট সেবার খরচ বিশ্বে তলানিতে, কিন্তু ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ। এই উচ্চ কর আরও বৈষম্য তৈরি করবে এবং ইন্টারনেট সেবা থেকে জনগণকে দূরে সরিয়ে দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র ও সেবামূলক রাষ্ট্র। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত জনগণের পকেট কাটার একটি অযৌক্তিক প্রচেষ্টা, যা সরে আসার আহ্বান জানাই।”
এমন কর বৃদ্ধিকে ফ্যাসিবাদী আচরণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের অভাব বলে উল্লেখ করেন গ্রাহক প্রতিনিধি।