ঢাকা, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ন

ফেলানী হত্যার ১৪ বছর: বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার আহ্বান

আজ ৭ জানুয়ারি, কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পূর্ণ হলো। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা কিশোরীর নিথর দেহের সেই মর্মান্তিক দৃশ্য এখনো ভোলেনি দেশবাসী। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।

২০১১ সালের এই দিনে, বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায় ১৫ বছরের ফেলানী। এ ঘটনা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বে আলোড়ন তোলে।

বিচারের দীর্ঘসূত্রতা

২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে এ হত্যার বিচার শুরু হয়। কিন্তু সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে দু’বারই খালাস দেওয়া হয়। ফেলানীর বাবা নূর ইসলামের পক্ষে ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে রিট করলেও, ২০১৮ সালের পর থেকে শুনানি কার্যক্রম আর এগোয়নি।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আগের সরকার বিচার করতে পারত, কিন্তু করেনি। নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, বিচারটা আন্তর্জাতিক আদালতে করা হোক।’

সীমান্ত হত্যার সমাধানে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন

আইনজীবীরা মনে করেন, ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার হলে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী এস. এম. আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে রিট নিষ্পত্তি হলে শুধু ফেলানীর পরিবার নয়, সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’

কুড়িগ্রামবাসীর দাবি

বারবার ভারত সরকারের আশ্বাস সত্ত্বেও সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়নি। ফেলানী হত্যার দ্রুত বিচার এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কুড়িগ্রামবাসী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

১৪ বছর পরও ফেলানীর মা-বাবার কান্না ও ন্যায়বিচারের আর্তি সীমান্ত হত্যার নির্মম বাস্তবতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ফেলানীর মতো আর কোনো সন্তান যেন কাঁটাতারের বেড়ায় প্রাণ না হারায়—এটাই সবার প্রত্যাশা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ