গত ডিসেম্বরে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে নেমে এসেছে। নভেম্বরে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
খাদ্য মূল্যস্ফীতির নিম্নগতি
বছরের শেষ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নভেম্বরে ছিল ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা নভেম্বর মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
গ্রাম ও শহরের চিত্র
গ্রামাঞ্চলে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ০৯ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ হয়েছে। এ সময় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।
দীর্ঘমেয়াদী লড়াই
উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ২২ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক মাস আগে ছিল ১০ দশমিক ০৫ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির এ নিম্নগতি সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্বস্তি এনে দিলেও, দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।