২০২৪ সালজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ছিল চরমে। বৈশ্বিক সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, ডলার ও স্বর্ণের দরবৃদ্ধি, এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মিলে বাজারে আগুন ধরায়। এসব কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগেছে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর শ্রেণি।
চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেলসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বছরের বেশির ভাগ সময় ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিশেষ করে মাছ, মাংস, ডিমের মতো আমিষজাতীয় পণ্যের দামে বেড়েছে চরম অস্থিরতা।
ডিম ছিল এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত পণ্য। ফার্মের ডিমের ডজন ১৮০ টাকায় ওঠে, যা সাধারণ ভোক্তাদের নাভিশ্বাস তুলে। খামারে বন্যার প্রভাব ও মুরগি মৃত্যুর কারণে সরবরাহ সংকটকে ব্যবসায়ীরা দায়ী করেন। পরবর্তী সময়ে সরকার ডিম আমদানি ও শুল্কছাড় দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করে।
আলু ও সবজির দামও ভোক্তাদের ভোগান্তির কারণ হয়। আলুর দাম বছরের বেশির ভাগ সময় ৫০ টাকার ওপরে ছিল, যা এক পর্যায়ে ৮০ টাকায় পৌঁছায়। সবজির বাজারেও দেখা যায় নজিরবিহীন ঊর্ধ্বগতি। করলা, বেগুন, গাজরের মতো সবজির দাম তিন-চার গুণ বেড়ে শতকের ওপরে চলে যায়।
চালের দাম বছরের শুরু থেকে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। নভেম্বরের পর কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ডিসেম্বর থেকে আবার বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে, ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে ছিল নাটকীয় পরিস্থিতি। শুল্কছাড়ের পরও আমদানিকারকদের অজুহাতে খোলা বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকে।
পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সারাবছরই মূল্যস্ফীতি উদ্বেগজনক ছিল। নভেম্বরেও এটি ১১.৩৮ শতাংশে পৌঁছায়। সরকারের নেওয়া শুল্ক ছাড়, পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি, এবং টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির পদক্ষেপগুলো কিছুটা হলেও বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হয়।
২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতি এড়াতে বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।