নড়াইলে বাসনা মল্লিক (৫০) নামে এক নারী ইউপি সদস্যকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ১/২জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে নিহতের ছেলে রিংকু মল্লিক বাদী হয়ে মামলাটি (মামলা নং ২১) দায়ের করেন। আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নপর দৌলতপুর গ্রামের ওসমান মোল্যার ছেলে ফারুক মোল্যা (৫০), দৌলতপুর গ্রামের আয়ুব আলীর ছেলে রজিবুল মোল্যা (৩০), সাত্তার মোল্যার ছেলে চঞ্চল মোল্যা (৩৫) ও শহিদ মোল্যার ছেলে শফিকুল মোল্যা (৩৩)।
এর মধ্যে এ মামলার আসামি ফারুক মোল্যা (৫০) কে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। শনিবার ভোরে মাগুরা জেলার হরিশপুর এলাকায় অবস্থিত তার বিয়াই বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১,২,৩ ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য (মেম্বার) বাসনা মল্লিক (৫০) এবং ওই ইউনিয়নের পোড়াডাঙ্গা গ্রামের নেপাল মল্লিকের স্ত্রী ছিলেন। তিনি মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে টিসিবির মালামাল বিতরণ শেষে বিকালে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় যুবক রাজিবুল ফোনে ডেকে পাওনা টাকা নিয়ে যেতে বলে। মাইজপাড়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মোক্তার মোল্যার বাড়িতে গেলে ফারুকসহ কয়েকজন মিলে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী বাসনা মল্লিক বিষয়টি জানিয়ে দেবে বললে তার মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা করে। বাড়িতে ফিরে এ ঘটনায় ভয়ে তিনি কাউকে কিছু বলেননি। রাতে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন বুধবার তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তিনি ছেলে রিংকু মল্লিকের কাছে তার উপরে নির্যাতনের বর্ণনা ও জড়িতদের নাম বলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার যশোর হাসপাতালে নিহতের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারে কাছে লাশ হস্থান্তর করা হয়। রাতেই লাশের সৎকার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাজেদুল ইসলাম মামলার বলেন, এ ঘটনায় ফারুক মোল্লা নামে একজনকে মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে চলছে বলে জানান তিনি।


















