সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে বুধবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এর প্রকৃত কারণ উদঘাটন সম্ভব হয়নি। আগুনে ছয় থেকে নয় তলা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিভিআর পুড়ে গেছে। রাষ্ট্রের এমন সংরক্ষিত স্থানে একই সঙ্গে তিনটি স্থানে আগুন লাগার ঘটনায় সারাদেশে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আট সদস্যের তদন্ত কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সময় লাগবে। একই দিনে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ধ্বংসস্তূপ থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। ভবনের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ৮ তলায় পুড়ে যাওয়া একটি কুকুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। কুকুরটি সেখানে কীভাবে উঠল এবং তার শরীরে কোনো বিষাক্ত পদার্থ ছিল কিনা, তা ফরেনসিক বিভাগ তদন্ত করছে। প্রাণিবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি স্ট্রিট ডগ হলে সচিবালয়ের মতো একটি সুরক্ষিত স্থানে এতদূর প্রবেশ করা অস্বাভাবিক।
তদন্তে উঠে এসেছে, সম্প্রতি মেগা প্রকল্পের ফাইল তলব করায় ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্থানীয় সরকার এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অফিসগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। এর সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢিলেঢালা হওয়ায় যেকোনো অননুমোদিত ব্যক্তি সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারছে। আগুন লাগার রাতেও নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
শনিবার তদন্ত কমিটি আবার বৈঠকে বসবে। এদিকে, সিআইডি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আলামত বিশ্লেষণ এবং সন্দেহভাজনদের প্রোফাইল তল্লাশি করছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।