নিজস্ব প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি স্বমহিমায় এগিয়ে যাচ্ছে। যেখানে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না, সেখানে আইপিডিসি ফাইন্যান্স গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিভাবে মুনাফা করেছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশও প্রদান করেছে প্রায় সমান তালে। কোম্পানিটির এমন পারফর্মেন্সে খুশি বিনিয়োগকারীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, আর্থিক খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করেছে। আবার অনেকে অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছে। কিন্তু আইপিডিসি’র সৎ, দক্ষ ও পরিশ্রমী পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্ট থাকায় এর সুফল পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। সুফল পাচ্ছেন আমানতকারী থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলেই।
তথ্য পর্যালোচনা সূত্রে জানা গেছে, গত তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৪) আইপিডিসি ফাইন্যান্স শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ০ দশমিক ৩৯ টাকা। অর্থাৎ গত তিন প্রান্তিকে মোট মুনাফা করেছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৯ টাকা। গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়ে আসছে কোম্পানিটি।
সূত্রটি বলছে, কোম্পানিটি ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস, ২০২০ ও ২০২১ সালে ১২ শতাংশ করে নগদ, ২০২২ সালে ১০ শতাংশ নগদ ও ২০২৩ সালে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের প্রদান করেছে।
গত পাঁচ বছর ধরে টানা মুনাফা করে আসছে আইপিডিসি। ২০১৯ সালে ৫৬ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ২০২০ সালে ৭০ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ২০২১ সালে ৮৮ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ২০২২ সালে ৯০ কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা ও সর্বশেষ গত বছর (২০২৩) ৩৪ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা মুনাফা করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ২০১৯, ২০২০, ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে যথাক্রমে এক দশমিক ৮২ টাকা, এক দশমিক ৯০ টাকা, দুই দশমিক ৩৭ টাকা, দুই দশমিক ৪৩ টাকা এবং ০ দশমকি ৯২ টাকা।
এছাড়াও ২০১৯, ২০২০, ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৭৮ টাকা, ১৬ দশমিক ৩৪ টাকা, ১৭ দশমিক ১২ টাকা, ১৮ দশমিক ৩৩ টাকা এবং ১৮ দশমিক ১৯ টাকা। ২০২৩ সালে আইপিডির মোট সম্পদের পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ১৯৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
আইপিডিসি ফাইন্যান্স-এর কোম্পনি সচিব ছামিউল হাসিম বিজনেস আই বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ীকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। আগামীতে আরও ভালো অবস্থানে থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৮ কোটি ৯৬ লাখ ৪৬ হাজার ১২৫টি, যার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ও সরকারের কাছে শেয়ার রয়েছে যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার রয়েছে যথাক্রমে ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ০ দশমিক ০৮ শতাংশ ও ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
পুঁজিবাজারে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করা আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২০০৬ সালে তালিকাভুক্ত হয়। আর এর অনুমোদিত মূলধন আটশো কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৮৯ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।