জুলাই মাসে ইরানে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসমাইল হানিয়েহ হামাসের সামগ্রিক নেতা ছিলেন
ইরানের তেহরানে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়েহকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রথমবারের মতো স্বীকার বিষয়টি স্বীকার করলেন।
ইসরায়েল কাটজ ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি আন্দোলনের প্রধানদের টার্গেট করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি বক্তৃতায় এ কথা বলেছেন। খবর বিবিসির।
হানিয়েহ ইরানের রাজধানীতে যে ভবনে অবস্থান করছিলেন জুলাই মাসে সেখানে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়, যার জন্য তখনই ইসরায়েলকে ব্যাপকভাবে দায়ি করা হয়।
অন্যদিকে পৃথকভাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার দিকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে কখন চুক্তি হবে তার সময়সীমা দিতে পারেননি।

ফিলিস্তিনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন যে হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মূল বিষয়গুলো রয়ে গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ তার বক্তৃতায় বলেন, “ইসরায়েল হুতিদের ওপর কঠিন আঘাত করবে এবং তার নেতৃত্বকে শিরচ্ছেদ করবে।”
এ বছর নিহত হিজবুল্লাহ ও হামাস নেতাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “আমরা তেহরান, গাজা ও লেবাননে হানিয়েহ, ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং হাসান নাসরাল্লাহর সঙ্গে যা করেছি, হোদেইদা এবং সানায় তা করব।”
হানিয়েহ (৬২) ব্যাপকভাবে হামাসের সামগ্রিক নেতা হিসেবে বিবেচিত এবং গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তার হত্যার পর হামাস গাজায় এর নেতা এবং ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম প্রধান পারিকল্পনাকারী ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে গ্রুপের সার্বিক নেতা হিসেবে নামকরণ করে।
অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে সিনওয়ার নিহত হন এবং গোষ্ঠীটি এখনো নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
হাসান নাসরাল্লাহ ইরানসমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা ছিলেন।
ইরানসমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণ করে। গত অক্টোবরে ইসরায়েল গাজায় হামাসকে লক্ষ্যবস্তু করার পরপরই লোহিত সাগরে ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা শুরু করে হুতিরা।
গাজার যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোষ্ঠীটি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
শনিবার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে যে তাদের ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি প্রজেক্টাইলকে গুলি করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি তেল আবিবের একটি পার্কে আঘাত করেছে। হুতির একজন মুখপাত্র বলেছেন, গোষ্ঠীটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনে হুতি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। আন্তর্জাতিক শিপিং রক্ষার অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
হামাস গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১২শ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে।
জবাবে ইসরায়েল গাজায় হামাসকে ধ্বংস করার জন্য সামরিক অভিযান শুরু করে যা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে ৪৫ হাজার ৩১৭ জনকে হত্যা করেছে।
হামাস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয় ৫৮ জন। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তারা বলেছেন, আল-মাওয়াসি এলাকায় তিনটি পৃথক হামলায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে, যেটিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসাবে মনোনীত করেছিল। ইসরায়েল বলেছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
সোমবার ইসরায়েল জানিয়েছে, উত্তর গাজা উপত্যকায় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছে।


















