খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পর নিয়মিত দেখানোর বিষয়ে কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলেছে, খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত দেখানো উচিত নয়। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যাসেল-৩ নীতিমালার আলোকে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা বৈঠকে এই সুপারিশ আসে। আইএমএফের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল ৪ ডিসেম্বর থেকে দুই সপ্তাহ ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আইএমএফের মতে, ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী পুনঃতফসিল করা ঋণ তিন মাসের আগে নিয়মিত দেখানো যাবে না। তিন মাস নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করার পরই তা নিয়মিত ঋণ হিসেবে গণ্য হবে। তবে দেশের ব্যাংকগুলো পুনঃতফসিলের পরপরই ঋণ নিয়মিত দেখিয়ে থাকে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে কোনো ঋণ অনাদায়ী থাকলে তা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী বছরের এপ্রিল থেকে নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। ব্যাংকগুলোকে জুনের মধ্যে ঋণের মান নিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। চতুর্থ কিস্তির অর্থ পেতে নীতিমালা ও অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ে আইএমএফের সুপারিশ মানার প্রয়োজন হবে।
নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে ঋণ ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।