সাদিয়া আফরিন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত জোট। ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে চীনের এই জোটের কাছে। ২০১৮ সালে চীনের জোটের কাছে শেয়ার বিক্রিতে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেন ডিএসইর তৎকালীন শেয়ারধারীরা। এরপর চীনের জোটকে ডিএসইর মালিকানায় রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে।
চীন ডিএসইর মালিকানায় যুক্ত হলেও তারা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তাদের কোন পরিকল্পনা ডিএসই কাছে লাগাতে পারছে না। এ বিষয়ে বিজনেস আই বাংলাদেশের সাথে কথা বলেছেন পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে তাদের মন্তব্য তুলে ধরা হলো-
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, দেশের শেয়ারবাজার বড় করার উদ্দেশ্যে ডিএসইর মালিকানায় যুক্ত হয়েছিল সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। কিন্তু ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কোন পরিকল্পনা কাজে লাগানো হয়নি। তাদের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে আজকে মার্কেট খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলত না।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে যারা পুঁজিবাজারের দায়িত্বে ছিল তারা সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। আমি মনে করি এখনো সময় আছে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জর পরিকল্পনা কাজে লাগানোর।
তিনি আরও বলেন, চায়নার পরিকল্পনা নিয়ে যারা কাজ করেছে তাদের পুঁজিবাজারেই উন্নতি হয়েছে। আমাদের পার্শবর্তী দেশ পাকিস্তান, নেপালের পুঁজিবাজারও অনেক উন্নত।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দকী বলেন, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে ডিএসইর অংশিদারিত্ব রয়েছে। কিন্তু মার্কেট ডেভেলপ করতে তাদের পরিকল্পনা কাজে লাগানো হয়নি। আমাদের মার্কেট ডেভেলপ করতে ডিএসইর কৈৗশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে নিজ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে ডিএসই যেভাবে চুক্তি করেছিল সেটা বাস্তবায়না হয়েছে কিনা আমরা নিশ্চিত না। ডিএসইর দায়িত্ব রয়েছে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে কাজে লাগানোর। বর্তমান বাজারকে গতিশীল করতে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে ডিএসইর আলোচনায় বসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদাকরণ) শর্ত অনুসারে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি বাধ্যতামূলক। এ কারণে শেয়ার বিক্রির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে দরপত্র আহ্বান করেছিল ডিএসই। এরপর চীনের দুই শেয়ারবাজার শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বে দুই কনসোর্টিয়াম আলাদাভাবে দরপত্রে অংশ নেয়।