চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অচল রয়েছে আদালতের কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে আইনজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ শুরু করে। এতে চট্টগ্রামের ৭৪টি আদালতে কোনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
জেলা আইনজীবী সমিতির পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কালো ব্যাজ ধারণ করে আইনজীবীরা প্রতিবাদ জানান। আইনজীবী সাইফুলের খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ অন্যান্য সংগঠনও একই দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেয়।
জোহরের নামাজের পর কোর্ট হিল মসজিদে সাইফুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সহকর্মীকে হারিয়ে শোকাহত আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে সাইফুলের স্মৃতিচারণ করেন।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) এ এন এম হুমায়ুন কবির জানান, আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মামলাগুলো পরবর্তী তারিখে নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিচারপ্রার্থীরা আগেই বিষয়টি জেনে আদালতে না এলেও কিছু মানুষ এসে ফিরে গেছেন।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে আদালত ভবনের সামনে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ আহত হন অন্তত ৩৭ জন। ঘটনায় পুলিশ পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে এবং আটজন হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুরের পর। চিন্ময়ের অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান আটকে বিক্ষোভ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। চিন্ময় কৃষ্ণকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।